bangla music

bangla music

নির্বাচন

কেন্দ্রের পেছনে মিললো ব্যালট বই-সিল, পুনর্নির্বাচনের দাবি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভবনের পেছন থেকে পাঁচটি ব্যালট পেপারের বই ও একটি সিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় বিদ্যালয় ভবনের সামনে কয়েকশ’ এলাকাবাসী ফলাফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের দফতরি ময়লা ফেলার জন্য ভবনের পেছনে গেলে ব্যালট পেপারের পাঁচটি বই ও একটি সিল পান। পরে, বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রাহাত তানভির চৌধুরী জানান, এখন পর্যন্ত কোনও প্রার্থী অভিযোগ করেননি। তবে সংশ্লিষ্ট ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার থানায় জিডি করে মুড়ি ও সিল রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেবেন। রিটার্নিয় কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে দিলে তিনি তদন্ত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাবেন। এ কেন্দ্রের ফলাফলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, আমানউল্যাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি সমর্থক বাহারুল আলম ঘোড়া প্রতীক নিয়ে তিন হাজার ১০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তিনি ওই ইউনিয়নের বিএনপির সহ-সভাপতি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হুদা পেয়েছেন দুই হাজার ৮৯১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর রহমান এক হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং নৌকা প্রতীকে আরিফুর রহমান মাহমুদ এক হাজার ৭০৫ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হুদা বলেন, কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে জোর করে ব্যালটে সিল মেরে বিজয়ী হয়েছেন বাহারুল আলম। অবিলম্বে ওই কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহনের দাবি জানান তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার মামলায় গত প্রায় ১৫ দিন আগে বাহারুলকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তার অনুসারীরা নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যান। এর মধ্যে আদালতে জামিন আবেদন প্রার্থনা করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১২ টি ইউনিয়নে ব্যালট পেপার এবং বেগমগঞ্জ ও নরোত্তমপুর ইউনিয়নে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হয়। ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ছয় জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পাঁচ জন এবং বিএনপি সমর্থক তিন জন প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।