bangla music

bangla music

জাতীয়

বাবা ও তিন ছেলেসহ একই পরিবারের ছয় প্রার্থী

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নে ১৪জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরমধ্যে বাবা ও তিন ছেলেসহ একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন।মুলত বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ফজলার রহমানকে প্রটেকশন দেয়ার জন্যই তারা প্রার্থী হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রচার প্রচারণা কিংবা জনসংযোগ না থাকলেও পাঁচ প্রার্থী কাজ করছেন ফজলার রহমানকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। আগামী ২৮নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জ উপজেলার এই ইউনিয়নে।

২নভেম্বর মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ও ১১নভেম্বর প্রত্যাহার এবং ১২নভেম্বর প্রতিক বরাদ্দ করা হয় প্রার্থীদের মাঝে। জানা গেছে, বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলার রহমানের পাশাপাশি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অফিসিয়ালি মাঠে রয়েছেন ছেলে আবু সাঈদ আখতারুজ্জামান, আবু সাজ্জাদ মোস্তফা কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা জামান। এছাড়া রয়েছেন ভগ্নিপতি আব্দুল কাইয়ুম আজাদ ও খালাতো ভাই মুক্তাদির রায়হান।

নির্বাচনে ফজলার রহমান লাঙল, ছেলে আবু হেনা মোস্তফা জামান আনারস, আবু সাঈদ আখতারুজ্জামান ঘোড়া ও আবু সাজ্জাদ মোস্তফা কামাল দোয়াত কলম প্রতিক পেয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,নির্বাচনী মাঠে রয়েছে মুল প্রতিদ্বন্দি ফজলার রহমান। প্রচার প্রচারণা ও জনসংযোগ করছেন বিভিন্ন ভাবে। আর অন্য কেউ নেই নির্বাচনী প্রচারনায়। ফজলার রহমান ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাঁচবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

প্রথম নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি ১৯৭৪সালে। ফজলার রহমানের তৃতীয় ছেলে আবু সাঈদ আখতারুজ্জামান বলেন, এটা নির্বাচনী কৌশল আমাদের। এরআগে নির্বাচনে আমাদের ভোট আরেকজনের বলে চালায় দেয়। রুমগুলোতে বেশি করে আমাদের এজেন্ট থাকলে তাহলে আর সমস্যা হবে না। প্রার্থী হলেও আমরা সবাই বাবার জন্য কাজ করছি। ভোটও বাবার মার্কায় যাবে। ফজলার রহমানের বড় ছেলে আবু হেনা মোস্তফা জামান বলেন, আমরা জনপ্রিয়তা যাচাই করছি। যার পজিশন ভালো তার পক্ষে যাবো। তিনি বলেন, যদি দেখি বাবার অবস্থান ভালো তাহলে তাকে সমর্থন দিবো। তিন ছেলেরও পোস্টার প্রস্তুত রয়েছে কিন্তু প্রচারণা চালাচ্ছি না। তবে মুল প্রতিদ্বন্দি ফজলার রহমানের ০১৭১৮৫৬৬১২২ নম্বরে কয়েক দফায় যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

একই পরিবারের এতজন প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতাকারীদের। প্রতিদ্বন্দি মঞ্জুরুল হক অভিযোগ করে বলেন, এটা কেন্দ্র দখলের কৌশল ফজলার রহমানের। প্রচার প্রচারণা এমনকি মাঠে নেই ফজলার রহমান ছাড়াও অন্য কেউ। মুলত ভোটের দিন প্রতিটি বুথে তাদের সাতজন করে এজেন্ট রেখে কেন্দ্র দখলে রাখার প্রক্রিয়ার একটি অংশ। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে বলাও হয়েছে।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী বেনজির আহমেদ বলেন, এটা আগে থেকে করে থাকেন ফজলার রহমান। ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করার জন্য এই পদ্ধতি তার। মুলত ভোটকেন্দ্রে গন্ডগোল করার চেষ্টা মাত্র। তিনি বলেন, প্রতি বুথে আমার থাকবে একজন এজেন্ট সেখানে তার থাকবে সাতজন। কথা বলার জায়গা তার বেশি হলো। সেক্ষেত্রে তিনি এটা করছেন কৌশলে।ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আমীন শাহ জানান, ১৫জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন এরমধ্যে ১১নভেম্বর প্রত্যাহারের দিনে রোকনুজ্জামান নামে এক প্রার্থী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। নির্বাচনী মাঠে এখন ১৪জন রয়েছেন। এই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৯হাজার ৩৩০জন বলে জানান তিনি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমাদের কোন কিছু করার নেই এ বিষয়ে। তবে কেউ আচরণ বিধি ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।