bangla music

bangla music

জাতীয়

সেই জাহাঙ্গীরের বাড়ি এখন সুনসান, অজানা আতঙ্ক!

আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কারের পর কার্যালয়ে যাননি গাজীপুর সিটি করপোরেশন, গাসিকের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। মহানগরীর ছয়দানার বাড়িতে অবস্থান করায় সুনসান নীরবতা থাকলেও রয়েছে মামলা আতঙ্ক। রোববার জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠজনরা গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে রোডের পাশে মেয়র হাউসের এমন পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন।তারা জানান, আওয়ামী লীগ থেকে সব পদ হারানোর পর থেকে আর মেয়রের কার্যালয়ে যাননি জাহাঙ্গীর আলম, থেকেছেন নিজের বাড়িতেই। তিনি এবং তার বাড়িরর লোকজন দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক ও পুলিশের অভিযানের আতঙ্কে রয়েছেন। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী থেকে মেয়র জাহাঙ্গীর পর্যন্ত সবার মধ্যেই এখন মামলার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

অজানা আতঙ্কে বাড়ির আশপাশে রোববার সারা দিনে তেমন কাউকে দেখা যায়নি উল্লেখ করে ঘনিষ্ঠরা বলছেন, আওয়ামী লীগের পদ ফিরে পাওয়া কিংবা মেয়র পদ রক্ষার চেয়ে মামলা থেকে বাঁচতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাহাঙ্গীর। সম্ভাব্য মামলা ঠেকাতে আজ দিনভর আইনজীবী এবং সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে শলাপরামর্শ করেছেন তিনি।আয়কর ফাইল ঘাঁটাঘাঁটি, এ নিয়ে দফায় দফায় পরামর্শ করা, সম্ভাব্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো যতটা সম্ভব সেরে ফেলার চেষ্টা করছেন জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া বাড়িতে থাকা সিটি কর্পোরেশনের নথিপত্র, মালামাল ও ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সে অনুযায়ী বাড়ির বাউন্ডারির ভেতরে থাকা গাড়িসহ অন্যান্য মালামাল সিটি কর্পোরেশন ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মালামাল সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট একজন ঠিকাদার জানান, দুদক বাড়িতে অভিযান চালাতে পারে- এমন সন্দেহে সিটি কর্পোরেশনের জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। একই ধরনের কথা বলেছেন বাড়ির ভেতরের খামারের একজন তত্ত্বাবধায়কও।জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে থাকা একাধিক ব্যক্তি জানান, গত দুই দিন ধরে বাড়ির বাইরে যাচ্ছেন না মেয়র। চারদিকে সম্ভাব্য মামলার কথা শোনা যাচ্ছে, এতে সবার মধ্যে মামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতদিন যে বাড়িতে লোকজনের ভিড় লেগে থাকতো, সেটি এখন সুনসান নীরবতার কারণে ভূতুড়ে মনে হচ্ছে।

জানা গেছে, বাড়ির মূল ফটকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে নেয়া হয়েছে, মেয়রের প্রটোকলও সেই বাড়ির ভেতরে। ক্ষমতাধর জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ থেকে ছিটকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটির চেহারা একেবারে বদলে গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না।সরেজমিন দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির সামনে ৩ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন, বাড়িটির নিচতলায় ৫-৬ জন অনুসারী বসে গল্প করছেন। তারা বলছেন, একটু অসতর্কতার জন্য সব হারালেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। দুই দিন আগেও এই বাড়িতে মানুষের ভিড় লেগে থাকত, এখন সবকিছু বদলে গেছে। রোববার সকালে অল্প কয়েকজনের দেখা মিলেছে বাড়িটিতে।

গত ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভায় জাহাঙ্গীর আলমকে দলটির সকল পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সই করা এক চিঠিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল তাকে। জবাব দিলেও সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ‘সুপার এডিট’ করা বলে দাবি করেন জাহাঙ্গীর আলম।গত সেপ্টেম্বরে জাহাঙ্গীর আলমের একটি কথোপকথনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠে। এরপর জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কার দাবিতে সোচ্চার হন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা।