bangla music

bangla music

জাতীয়

এতদিন আমি কেঁদেছি, এখন তারা কাঁদছে

সাভারের আমিনবাজারে দশ বছর আগে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হ`ত্যার মামলার ১৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কা`রাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে আমিনবাজারে বেড়াতে আসা ছয় ছাত্রকে ডাকাত বানিয়ে পি`টিয়ে তাদের হ`ত্যা করা হয়।

নি`হত ছয়জন ছাত্র হলো—ধানমণ্ডির ম্যাপললিফ স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শাম্মাম, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ইব্রাহিম খলিল, বাঙলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের তৌহিদুর রহমান পলাশ, তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের টিপু সুলতান, মিরপুরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের সিতাব জাবীর মুনিব এবং বাঙলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র কামরুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ইসমত জাহান। অভিযুক্ত ৬০ আসামির মধ্যে তিন জন বিচার চলাকালে মারা যান। বাকি ৫৭ আসামির মধ্যে ১৩ জনকে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি তাদের সবাইকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অন্য একটি ধারায় আরও সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণ না হওয়ায় মামলার বাকি ২৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দিন আদালত।

রায় ঘোষণার পর পর নিহত ছাত্র টিপু সুলতানের মা কাজী নাজমা সুলতানা গণমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘সব আসামির ফাঁসি প্রত্যাশা করেছিলাম। তা হলে আরও খুশি হতাম। তবে এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এতদিন কষ্ট পেয়েছি, যতদিন বেঁচে থাকব, কষ্ট পাব। তারপরও যে রায় হয়েছে, তাতে শুকরিয়া আদায় করি।’

কাজী নাজমা সুলতানা বলেন, ‘এতদিন আমি কেঁদেছিলাম, এখন তারা কাঁদছে। আমার আর কিছু বলার নেই। তবে চাই—দ্রুত যেন আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হয়।’ একই অনুভূতি ব্যক্ত করে নিহত ইব্রাহিম খলিলের বাবা আবু তাহের বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দোষীদের সাজা হয়েছে। তবে আশা—রায়টা যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।’ সূত্রঃbd24live.com