bangla music

bangla music

জাতীয়

ঝাড়ু মার্কা আনুম, নৌকা আর না, নৌকার পরাজিত প্রার্থী

‘যদি পিছা (ঝাড়ু) মার্কা থাকে তবে পিছা মার্কা আনুম, তবু নৌকা মার্কা আনুম না। পিছা মার্কা আনুম, নৌকা মার্কার লগে নাই। নৌকা মার্কা না লইলে আমরা পাস করব নিশ্চিত, ইনশা আল্লাহ। কারণ যারা ধানের শীর্ষ করে তারা নৌকায় ভোট দিতে পারে না। হেগো নাকি হাত কাঁপে।’মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দ্বীন ইসলাম শেখ নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক সভায় এমন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আড়িয়ল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

দ্বীন ইসলাম শেখ তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘ভোট যা হইছে বাদ, আজকা থেকে পিছনে কী হইছে সেটা দেখব না। আমি আশাবাদী মানুষ, আমি খালি সামনে দেখি। সামনে দেখব, এগিয়ে যাব। আজকে আমরা, চেয়ারম্যান হাইরা গিয়া মন খারাপ করছে অনেকে। ভাগ্য থাকলে তো আগামীবার উপজেলাও করতে পারি, কী বলেন? চেয়ারম্যানি নিয়া চিন্তা করার কিছু নাই।

চাইলে আল্লারে পাওয়া যায়। এটা তো চেয়ারম্যানিওই। কী বলেন? এবারও পারতাম, দুই-চারটা মরতো হয়তো। এই জন্য করি নাই। আগামীতে মনোনয়নও লাগবে না, ভোটও আপনাগো চাওয়া লাগবে না, এমনি আমরা পাস করুম ইনশা আল্লাহ।’দ্বীন ইসলাম শেখের এ বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এরই মধ্যে। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্বীকার করে দ্বীন ইসলাম শেখ বলেন, আমাদের ইউনিয়ন থেকে ১০ জন নৌকা চাইছিলাম, আমি নৌকা পাওয়ার পর বাকি নয়জনই আমার বিপক্ষে কাজ করেছেন। একজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। সবাই মিলে আমাকে অনেকটা ঘরবন্দি করে রাখছিল, আমার ভাগনেকে মারধর করা হয়েছিল। স্থানীয় নেতাকর্মী, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী; কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি। প্রশাসন থেকেও অসহযোগিতা করা হয়েছে। নৌকার বিপক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের বিষয়ে জেলার নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। মনের কষ্টে তাই বলেছি কথাগুলো।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হালদার বলেন, নির্বাচনে পাস ফেল থাকবে, তবে তার এ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। দলকে অবমাননা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ আল আসাদ বারেক বলেন, অনেক নেতাকর্মী আমার কাছে ভিডিওটি পাঠাচ্ছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে এমন কথা বলা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

তিনি আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আমি আশা করি, ওনি এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন। এ বিষয়ে নেতাদের থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ী হয় আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাদির হাওলাদার। পরাজিত হন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দ্বীন ইসলাম শেখ।